মুসাইলামাতুল কায্‌যাব ও তার মিথ্যাচার

0
957

বিশ্বে অনেক লোক এমন এসেছে যারা চেয়েছে, কুরআনের মতো কিছু একটা বানাতে। যেমন মুসাইলামাতুল কাযযাব তাদের একজন। সে কুরআনের মতো কিছু লিখতে চাইলো। এগুলকে সে কুরআনের আয়াতের মতো আয়াত বলে তা প্রচার করতে লাগল। একদিন আমর ইবনিল আ’স তার কাছে গেলেন, তখন তিনি মুসলমান হননি। তাকে বললেন,শোনাও! তোমার কাছে কী খবর আছে?
তোমার মতে তুমি এখন নবী। নিয়ে এসো! তোমার কাছে কী আছে? তোমার কাছে কী নাযিল হয়েছে?
মুসাইলামাহ আমাদের নবীকে বিশ্বাস করতো। তাঁকে অস্বীকার করতো না। ে আমাদের নবীর কাছে একটি চিঠি লিখেছিল। সেখানে সে বলেছিল- হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ তাআলা আমাকে নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যে ভাবে আপনাকে নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমার এই চিঠি পাওয়ার পর আপনি নুবুওয়াতকে দুই ভাগে ভাগ করে নিন। অর্থাৎ অর্ধেক পৃথিবীর নবী আমি আর বাকী অর্ধেকের নবী আপনি।
লা হাওলা অয়ালা ক্কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ! সে আমাদের নবির ওপর হুকুম চালাচ্ছে! তার মতে যেন ইসলামী রিসালত এমনি।
সাহাবা এ কিরাম তার চিঠি পেয়ে প্রিয়নবিকে পড়ে শুনান। নবিজি বলেন তার চিঠি তাকে ফেরত পাঠিয়ে দাও। আর তাতে এটা লিখে দাও-
আল্লাহর বানী- পৃথিবী আল্লাহর, তিনি বান্দাদের মধ্যে যাকে চান তাকে তার ওয়ারিস বানান, আর শেষ পরিণতি মুত্তাক্কিদের জন্য।
আমর ইবনুল আ’স বলেন, আজ তোমার কাছে কী নাযিল হয়েছে?
মুসাইলামাহ বলে- আমার কাছে আজ সুরা ফিলের মত একটি সুরা নাযিল হয়েছে।
আমর ইবনুল আ’স একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি। তাকে ধোঁকা দেয়া সম্ভব নয়। তিনি তাকে বলেন, আচ্ছা, শোনাও তো দেখি।
মুসাইলামাহ বলে- আল ফীল। ওমা আদরাকা মাল ফীল। লাহু খুরতুমুন তাউইল। ওয়া যাইলুন কাসির। ব্যাস! তার বানানো সুরা শেষ।
সুরা কাওসারে তিন আয়াত, তার এই সুরারও তিন আয়াত।
আমর ইবনুল আ’স বলেন- এছাড়া তোমার কাছে আর কী সুরা আছে?
মুসাইয়ামাহ বলে- হাঁ, আমার কাছে সুরা যিফদা’ আছে।
আমর ইবনুল আ’স বলেন- শোনাও তো দেখি।
মুসাইলামাহ বলে- ইয়া যিফদাউন নুক্কী। মা তুনক্কিনা লাল মা’ তাশরাবিনা, ওলাল মাউ তুকাচ্ছিরিনা।
তখন আমর ইবনুল আ’স তার দিকে তাকিয়ে বলেন- হে মুসাইলামাহ! আল্লাহর কসম! তুমি জান যে, আমি ভালো করে জানি তুমি নিঃস্বন্দেহে একজন মিথ্যাবাদী। আমি কিভাবে তোমার সাথে থাকি, তোমার কিছু ব্যাপার এমন আছে, যা বুদ্ধিতে ধরে না!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here