ঈদুল ফিতরে কী করবেন কী করবেন না

0
441

প্রতিবছর দুই ঈদ মুসলমানদের জীবনে নিয়ে আসে আনন্দের ফল্গুধারা। এ দুটি ঈদের মধ্যে ঈদুল ফিতরের ব্যাপ্তি ও প্রভাব বহুদূর বিস্তৃত। পূর্ণ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ মুসলিম জাতির প্রতি সত্যিই মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এক বড় নিয়ামত ও পুরস্কার। মুসলিম উম্মার প্রত্যেক সদস্যের আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা ও মমতা ঈদের এ পবিত্র ও অনাবিল আনন্দ-উৎসবে একাকার হয়ে যায়। ঈদ মুসলমানদের জীবনে শুধুমাত্র আনন্দই নয়, বরং এটি একটি মহান ইবাদতও বটে। এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা খুঁজে পায়, ধনী-গরিব, কালো-সাদা, ছোট-বড়, দেশি-বিদেশি সকল ভেদাভেদ ভুলে যায় এবং সবশ্রেণী ও সব বয়সের মানুষ ঈদের জামাতে শামিল হয়ে মহান প্রভুর শোকর আদায়ে নুয়ে পড়ে।

ঈদ শব্দের অর্থ : ঈদ আরবি শব্দ, এর অর্থ ফিরে আসা। অনেকে বলেন, এটা আরবি আদত বা অভ্যাস শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। কেননা ঈদ উদ্যাপন করা মানুষের একটি অভ্যাস। সে যাই হোক, যেহেতু এ দিনটি বার বার ফিরে আসে তাই এর নাম ঈদ। এ শব্দ দ্বারা এ দিবসের নাম রাখার তাৎপর্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ দিবসে তাঁর বান্দাদেরকে নেয়ামত ও অনুগ্রহ দ্বারা বার বার ধন্য করেন ও বার বার তাঁর এহসানের দৃষ্টি দান করেন। যেমন রমজানে পানাহার নিষিদ্ধ করার পর আবার পানাহারের আদেশ প্রদান করেন। সাদকায়ে ফিতর, হজ্ব-যিয়ারত, কোরবানির গোশত ইত্যাদি নেয়ামত তিনি বার বার ফিরিয়ে দেন। আর এসব নেয়ামত ফিরে পেয়ে ভোগ করার জন্য অভ্যাসগতভাবেই মানুষ আনন্দ-ফূর্তি করে থাকে। তাই ঈদের দিন খুশির দিন, আনন্দের দিন।

ঈদুল ফিতর কি? ঈদুল ফিতর মুসলমানদের দুটো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি। ঈদুল ফিতর শব্দটি হচ্ছে আরবি। হাদিসের ভাষায় তার অর্থ হচ্ছে_রোজা ভাঙ্গার দিবস অথবা ইয়াউমুল ঈদ বা আনন্দের দিন, খুশির দিন। ঈদুল ফিতরের আরও এক নাম হচ্ছে সাদাকাতুল ফিতর বা সিয়াম ভঙ্গের জন্য দান। যেহেতু এ দিনে রোজার ভুল-ত্রুটির জন্য সাদাকাতুল ফিতরা দেয়া হয় তাই এ দিনকে সাদাকাতুল ফিতরও বলা হয়। ঈদ আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বড় নেয়ামত। কিন্তু আমরা এ দিনকে নেয়ামত হিসেবে গ্রহণ না করে অহেতুক উল্লাসে মেতে উঠি। এ দিনে অনেক কাজ আছে যা করলে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি এবং তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। ঈদের দিনে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার করা হলো।

ঈদের দিনের করণীয় ১. ফজরের সালাত আদায় করা : ঈদ আমাদেরকে এতোই মশগুল করে যে, আমরা অনেকে ঈদের দিনে ফজরের সালাতটুকু আদায় করতে পারি না। অথচ ফজরের নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসূলুল্লাহ (সা). বলেছেন, যদি তারা ইশা ও ফজর নামাজের মধ্যে কি আছে তা জানত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দুটি নামাজের জামাতে শামিল হতো। (সহীহ বুখারী) ২. রোজা না রাখা: ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। তাই ঈদুল ফিতরের দিনে রোজা রাখা আমাদের জন্য মোটেও ঠিক হবে না। আবু সাঈদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের দিন (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায়) রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম) ৩. গোসল করা : ঈদের সালাতের পূর্বে গোসল করা সুন্নাত। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের নামাজে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক]। অনুরূপ সাঈদ ইবনে যুবাইর (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, ঈদুল ফিতরের তিনটি সুন্নাত রয়েছে : পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া, গোসল করা ও ঈদগাহে যাবার পূর্বে কিছু খাওয়া। ৪. সকালবেলা কিছু খাওয়া : ঈদের নামাজে যাওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া সুন্নাত। হাদিসে খেজুর বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়ার কথা উল্লেখ আছে। হজরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না। অন্য হাদিসে আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন। (সহীহ আল বুখারী) ৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা : ঈদের দিন আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাত। ৬. সুন্দর পোশাক পরিধান করা : ঈদের আরেকটি করণীয় হলো, এ দিনটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুন্দর পোশাক পরিধান কর । জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি সুন্দর জুব্বা ছিল যা তিনি দুই ঈদে ও জুমআর দিনে পরিধান করতেন। (মুসনাদ বায়হাকী) ৭. সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা : ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ সাদাকাতুল ফিতর প্রদান করাকে বাধ্যতামূলক করেছেন। যা একদিকে অশ্লীল-অনর্থক কথা ও কাজ দ্বারা কলুষিত রোজাকে পবিত্র করে, অন্যদিকে অসহায়-নিঃস্বকে খাদ্যদানে সহায়তা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। যে ব্যক্তি সাদাকাতুল ফিতর ঈদের নামাজের পূর্বে আদায় করে, তা কবুল করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পরে আদায় করবে, তা সাধারণ সাদাকাহ হিসেবে পরিগণিত হবে। ৮. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া : হজরত সাঈদ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত। তবে হেঁটে যাওয়া সম্ভব না হলে বাহনে চড়ে ঈদগাহে যাওয়া দোষণীয় নয়। ৯. ঈদের জামাতে যাওয়া-আসার পথ ভিন্ন হওয়া : ঈদের আরেকটি সুন্নাত হলো ঈদের জামাতে যাওয়া-আসার পথ ভিন্ন হওয়া। এতে দীর্ঘ হাটা এবং বেশি মানুষের সাথে মিশার উপকারিতা রয়েছে। ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক রাস্তা দিয়ে ঈদের নামাজে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন। (সহীহ আল বুখারী) ১০. তাকবীর বলা : তাকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত।

রমজান সংক্রান্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন : তোমরা (রমজানের) রোজা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর বড়ত্ব্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করো।’ (সূরা আল বাকারা : ১৮৫)১১. ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় : ঈদের দিনে পারস্পরিক ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করা ঈদের আরেকটি সুন্নাত। সাহাবায়ে কেরাম এই দিনে একে অপরকে বলতেন তাকাব্বালুল্লাহা মিন্না ওয়া মিনকুম। ১২. ঈদের সালাত আদায় করা : ঈদের দিন ঈদের সালাতের পূর্বে কোনো সালাত আদায় করা ঠিক নয়। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের দিন বের হয়ে শুধুমাত্র ঈদের দু রাকাআত সালাত আদায় করতেন। ঈদের সালাতের পূর্বে বা পরে নফল বা অতিরিক্ত কোনো সালাত আদায় করতেন না। (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম ও তিরমিযী)। ১৩. খুতবাহ শুনা ও দুআ করা : ঈদের সালাতের পরে ইমাম সাহেব খুতবাহ প্রদান করবেন এবং মুসলি্লগণ তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করবেন। এটি পালন করা ওয়াজিব। খুতবাহতে মুসলিম উম্মাহর দিক-নির্দেশনামূলক বাণী ও সকলের কল্যাণের জন্য দুআ থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত বস্তু হলো দুআ। আল্লাহ স্বয়ং মানুষকে দুআ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যারা দুআ করে না তাদেরকে তিনি অহংকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন : আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করবো। যারা অহঙ্কারাবশে আমার ইবাদত হতে বিমুখ, তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সূরা মুমিন : ৬০)। ১৪. কবর যিয়ারত করা : কবর যিয়ারত করা একটি নেক আমল। হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন, তোমরা কবর যিয়ারত কর, কেননা তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়। (আবু দাউদ)

ঈদের দিনের বর্জনীয় দিকসমূহ ১. জামাতের সাথে ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা করা ২. ঈদের দিন সিয়াম পালন করা ৩. বিজাতীয় আচরণ প্রদর্শন করা ৪. নারী-পুরুষ একে অপরের বেশ ধারণ করা ৫. নারীদের খোলামেলা অবস্থায় রাস্তাঘাটে বের হওয়া ৬. গান-বাজনা করা, অশ্লীল সিনেমা ও নাটক দেখা ৭. অযথা কাজে সময় ব্যয় করা ৮. অপচয় ও অপব্যয় করা ৯. আতশবাজি করা ১০. ঈদের সালাত আদায় না করে কেবল আনন্দ-ফূর্তি করা ইত্যাদি। পরিশেষে বলতে চাই, ঈদের দিনের শরীয়তসম্মত করণীয়গুলো পালন করার মাধ্যমে নিজেকে ধর্মীয় অনুভূতি সম্পন্ন একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রে শান্তি, শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব, সাম্য, সমপ্রীতি ও সহমর্মিতার নজির স্থাপন করা আমাদের একান্ত কর্তব্য।

ঈদুল ফিতরের পরিচয়:

১.”ঈদ” এর সংজ্ঞা আরবীতে “ঈদ” শব্দের অর্থ হচ্ছে এমন সাধারণ সম্মেলন যা বারবার ফিরে আসে; চাই তা সপ্তাহ ঘুরে ফিরে আসুক, মাস ঘুরে আসুক কিংবা বছরে ঘুরে।

২.ঈদুল ফিতরের সময়কাল: সকল মুসলিমের ঐকমত্যে ঈদুল ফিতরের দিনটি হচ্ছে আরবি শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। ইবনে হাযম (রহ.) এ ব্যাপারে ইজমা (মুসলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত) বর্ণনা করেছেন।

৩. দুই ঈদে রোযা পালনের বিধান :দুই ঈদের দিনে রোযা রাখা সম্পূর্ণ হারাম। ইবনে হাযম, ইবনে কুদামা ও ইমাম নববী (রহ.) এ ব্যাপারে ইজমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

৪. ঈদুল ফিতর প্রবর্তনে হিকমত : মাসব্যাপী দীর্ঘ সিয়াম সাধনার পর মানুষের আনন্দ উৎসবের জন্য মহান আল্লাহ একটি দিবস নির্ধারণ করে দিয়েছেন; এ দিনটিতে সকল মুসলিম বিগত এক মাসের কষ্ট আর ক্লান্তিকে ভুলে গিয়ে সকল অন্যায় অপরাধ মার্জনা ও মহাপুরস্কার প্রাপ্তির সুসংবাদে আনন্দ ও কুশল বিনিময়ে মেতে উঠবে, বৈধ উপায়ে সুখোৎসব পালন করবে, আত্মীয় স্বজনের খোঁজখবর নেবে, গরিব মিসকীনকে দান খয়রাত করবে। এভাবে তারা আল্লাহ প্রদত্ত এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে।

ঈদুল ফিতরে তাকবীর উচ্চারণের সময়কাল :

১.”তাকবীর”এর সূচনা:ঈদুল ফিতরের রাত্রি অর্থাৎ শাওয়াল মাসের চাঁদ দর্শন অথবা ৩০ রমযানের সূর্যাস্তের পর থেকেই তাকবীর উচ্চারণ শুরু হয়ে যাবে। এটাই শাফেঈ ও হাম্বলী মাযহাবসিদ্ধ মত। ইমাম বগভী, ইবনে তাইমিয়া, ইবন বায এবং ইবন উসাইমিন-এর মতামতও তাই। আর ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটিও এ ফতোয়া দিয়েছেন।

২.ঈদুল ফিতরের তাকবীরকে সালাতের পরে নির্ধারিত করার বিধান : ঈদের রাতে মাগরিব ও এশার নামাযের পরমুহূর্ত এবং ঈদের নামাযের পরবর্তী মুহূর্তের জন্য তাকবীর উচ্চারণ সীমাবদ্ধ নয়। এটাই হাম্বলী মাযহাবসিদ্ধ মত। অধিকাংশ শাফেঈ মতাবলম্বীর কাছে এটাই সঠিক ফতোয়া। ইমাম নববী, ইবনে তাইমিয়া ও ইবনে উসাইমিন রহ. এটাকেই গ্রহণ করেছেন।

৩.তাকবীরের শব্দাবলী: এ ব্যাপারেও দুটি মতামত লক্ষ্য করা গেছে

ক. প্রথম মত: উত্তম হচ্ছে নিম্নোক্ত শব্দগুলো পড়া –

উচ্চারণ : (আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা– ইলা–হা ইল্লাল্লা–হু আল্লাহু আকবার ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ) অর্থ (আল্লাহ সর্ব মহান, আল্লাহ সর্ব মহান, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, আল্লাহ সর্ব মহান, আল্লাহ সর্ব মহান, আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা..)

“আল্লাহু আকবার” বাক্যটি দু’বার করে বলবে, যেমনটি হাম্বলী মাযহাবসিদ্ধ আমল। অথবা তিনবার করে বলবে। মোটকথা, সবগুলোই বৈধ ও উত্তমপন্থা। এটাই ইবন বায ও ইবন উসাইমিন রহ. এর অভিমত।

খ. দ্বিতীয় মত: ঈদুল ফিতরের দিন তাকবীর উচ্চারণের জন্য সুনির্ধারিত কোনো শব্দ বর্ণিত নয়; বরং স্বাভাবিক পন্থায় আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করতে থাকবে। আল্লাহ পাক বলেন- যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুণ আল্লাহ তালার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।” (সূরা বাকারা- ১৮৫)

তাকবীরের নিয়মাবলী

১. জোরে ও আস্তে তাকবীর দেয়ার বিধান: পুরুষদের জন্য ঈদগাহের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার পর থেকে স্বজোরে তাকবীর বলা সুন্নত। মালেকী, শাফেঈ, হাম্বলী মাযহাবী অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের এটাই অভিমত। এটি ইমাম আবু হানিফার একটি মত, মুহাম্মদ, আবু ইউসুফের মত এবং ইমাম তাহাবী (রহ.) তা পছন্দ করেছেন।

২. সম্মিলিত তাকবীর দেয়ার বিধান: সম্মিলিত তাকবীর উচ্চারণ বিদআত। মালেকীগণ সুস্পষ্টভাবে তা বর্ণনা করেছেন। আর এটি শাতেবী রহ. এর মত। ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফতোয়াও তাই।

ঈদের নামাযের ফযিলত

ঈদের সালাতের মহা ফযিলত রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ঈদের নামায পরিত্যাগ করেননি; এমনকি মহিলা, একান্তে বাসকারিনী ও ঋতুস্রাবওয়ালী মহিলাদেরকেও ঈদের জামাতে শরীক হতে নির্দেশ দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম কখনোই এই সুন্নাত ত্যাগ করেননি। এ থেকেই ঈদের নামাযের গুরুত্ব ও ফযিলতের বিষয়টি অনুমান করা যায়। তাছাড়া এতে আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করা হয়, আল্লাহর বিধি-বিধানকে প্রকাশ ও সম্মান করা হয় এবং কল্যাণ কাজে মুসলিমদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের নামায প্রবর্তনের হিকমত

ঈদের জামাত ও খুৎবা পাঠের অন্যতম হিকমত হচ্ছে, কোনো সম্মেলন যেন আল্লাহর স্মরণ এবং দ্বীনের বিধি-বিধানের গুরুত্ব প্রকাশ ব্যতীত অনুষ্ঠিত না হয়। পাশাপাশি এর মাধ্যমে শরীয়তের মূল উদ্দেশ্যসমূহের একটি উদ্দেশ্য সাধিত হয়, আর তা হচ্ছে প্রত্যেক জাতির প্রয়োজন একটি মহড়া, যাতে তারা তাদের শৌর্যবীর্যের প্রদর্শনী ও সংখ্যার আধিক্য দেখাবে। এ কারণেই মুস্তাহাব হচ্ছে, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, পুরুষ-মহিলা একান্তবাসী মেয়ে ও ঋতুস্রাবওয়ালী মহিলা নির্বিশেষে সকলেই ঈদগাহে গমন করবে, যাওয়া ও আসার পথ ভিন্ন করবে; যাতে করে উভয় পথের লোকেরা মুসলিমদের ক্ষমতা দেখতে পায়।

ঈদের নামাযের বিধান

ঈদের নামায আদায় করা প্রত্যেকের উপর ওয়াজিব। এটাই হানাফী মাযহাবের স্বতঃসিদ্ধ মত। ইমাম শাফেঈ এর প্রকাশ্য মতও তাই, তাছাড়া এটি ইমাম আহমদ (রহ.) এর একটি বর্ণনা। অনুরূপভাবে মালেকী মাযহাবের ইবনে হাবীবের প্রকাশ্য মতও তাই।

ঈদের নামাজের সময়ের সূচনা: সূর্য যখন আনুমানিক এক বর্শা পরিমাণ উপরে উঠে যায় তখন (অর্থাৎ প্রায় সূর্যোদয়ের পনের মিনিট পর) থেকে ঈদের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়। হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মতাবলম্বী অধিকাংশ ফকিহের এটাই অভিমত। আর এটি শাফেঈ মাযহাবের একটি দিক, যা ইমাম বাগভী পছন্দ করেছেন।

ঈদের নামাজের সময়ের সমাপ্তি: পশ্চিম দিকে সূর্য হেলার সাথে সাথে ঈদের নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে হানাফী, মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী মাযহাব চতুষ্টয় একমত।

ঈদুল ফিতরের নামায বিলম্বে আদায়

হানাফী, মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী চার মাযহাবের ঐকমত্যে ঈদুল ফিতরের নামায বিলম্বে আদায় করা মুস্তাহাব। ইবন কুদামা এ ব্যাপারে ইজমা বর্ণনা করেছেন।

আদায়ের স্থান

১- ঈদের সালাত মাঠে আদায় করা

মক্কা মুকাররমা ব্যতীত অন্য সকল স্থানে প্রশস্ত ও উন্মুক্ত প্রান্তরে ঈদের জামাত কায়েম করা সুন্নত। এটাই হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মতাবলম্বী অধিকাংশ ফকিহের অভিমত। এটি শাফেঈ মাযহাবের একটি দিক, ইবনুল মুনযির, ইবন হাযম ও শাওকানী তা পছন্দ করেছেন।

২- মসজিদে হারামে (মক্কা শরীফ) ঈদের নামায আদায়

উত্তম হচ্ছে, মক্কায় মসজিদে হারামে ঈদের জামাত কায়েম করা। আর এটিই মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ ফকিহের মত। আর এটিই ছিল এক বিরাট গোষ্ঠী সালফে সালেহীনের কাজ।

ঈদের নামাযে আযান ইকামত : ঈদের নামাযের জন্য কোন আযান বা ইকামত শরীয়ত প্রদত্ত নয়। ইবনে রুশদ, ইবনে কুদামা ও ইরাকী রহ. এ ব্যাপারে ইজমা বর্ণনা করেছেন।

ঈদের নামাযের আগে পরে নফল নামায : ঈদের নামাযের পূর্বে বা পরে কোন নফল বা সুন্নত নামায নেই। ইবনে কুদামা ও ইমাম নববী (রহ.) এ বিষয়ে ইজমা নকল করেছেন।

ঈদের নামাযের নিয়ম

১.রাকাতের পরিমাণ : সর্বসম্মতিক্রমে ঈদের নামায দুই রাকাত। ইবনে কুদামা, ইমাম নববী ও মাওয়ারদী (রহ.) এ ব্যাপারে ইজমা’ বর্ণনা করেছেন।

২. ঈদের নামাযের তাকবীরসমূহ

অতিরিক্ত তাকবীরের বিধান : ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর বলা সুন্নত। এটাই মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ ফকিহের মত। সুন্নত হচ্ছে তাকবীরে তাহরীমার পরপরই অতিরিক্ত ছয় তাকবীর বলা এবং দ্বিতীয় রাকাতে উঠার সময় তাকবীরের পরপরই আরও পাঁচ তাকবীর বলা। এটা মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের আমল। ইবনুল কায়্যিম, ইবন বায, ইবন উসাইমিন রহ. ও ফতেয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি এটিকেই গ্রহণ করেছেন।

অতিরিক্ত তাকবীরের সময় হাত উঠানো: অতিরিক্ত তাকবীরের সময় হাত উঠানো সুন্নত। হানাফী, শাফেঈ ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ ফকিহ এ মত পোষণ করেন। আর এটি কোনো কোনো সালফে সালেহীনেরও মত।

অতিরিক্ত তাকবীরের পূর্বে উদ্বোধনী দোয়া (ছানা) পাঠ:সুন্নত নিয়ম হল, অতিরিক্ত তাকবীরসমূহের পূর্বে উদ্বোধনী দোয়া (ছানা) পাঠ করে নেয়া এবং অতিরিক্ত তাকবীর বলার পর তাআওউয (আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম) পড়ে সূরা ফাতেহা শুরু করা। এটিই হানাফী, শাফেঈ ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ আলেমের মতামত।

প্রত্যেক দুই তাকবীরের মাঝে যা বলবে

১ম মত: সুন্নত হল আল্লাহর যিকির করা। যেমনটি ইমাম শাফেঈ এবং আহমদ (রহ.) এর মত। ইবনুল মুনযির এটিকে পছন্দ করেছেন।

২য় মত: এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বর্ণিত নেই; বরং নামাযী ব্যক্তি তাকবীরসমূহ অবিরাম বলে যাবে। এটাই হানাফী ও মালেকীদের মাযহাব। ইমাম নববী (রহ.) এক্ষেত্রে অধিকাংশ আলেমের প্রাধান্য বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাযম, সানআনী এবং ইবন উসাইমিন এটিকেই গ্রহণ করেছেন।

ঈদের নামাযে ক্বেরাত প্রসঙ্গে

ঈদের সালাতে স্বজোরে ক্বেরাত পড়া: ঈদের সালাতে ইমাম স্বজোরে ক্বেরাত পড়বে। ইবনে কুদামা এবং ইমাম নববী (রহ.) এক্ষেত্রে ইজমা বর্ণনা করেছেন। ঈদের নামাযে সূরা ফাতেহার পর যে সকল সূরা পড়া সুন্নত: সুন্নত হল, প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাতে যথাক্রমে সূরা আলা এবং সূরা গাশিয়া অথবা সূরা ক্বাফ এবং সূরা ক্বামার পাঠ করা।

ঈদের নামায ক্বাযা আদায়। যদি কারো ঈদের নামায ছুটে যায়, তবে কিভাবে সে এর ক্বাযা আদায় করবে, এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে:

১ম মত: ঈদের নামাযের কোন ক্বাযা নেই। এটাই হানাফী মাযহাবের মত। ইবনে তাইমিয়া ও ইবনে উসাইমিন রহ. এটাকেই গ্রহণ করেছেন।

২য় মত: হুবহু দুই রাকাত উল্লেখিত তাকবীরসমূহ সহ ক্বাযা করবে। এটি মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী মাযহাবের মত।

ঈদের জামাতে মাসবূক ব্যক্তির নামাযের বিধান :

যদি কোনো মুসল্লী বিলম্বে এসে অতিরিক্ত তাকবীরসমূহ হাতছাড়া করে শুধু রাকাতে শরীক হয়, তবে ছুটে যাওয়া ঐ তাকবীরসমূহের কাযা করবে না। এটাই শাফেঈ এবং হাম্বলীদের মাযহাব। ইবন বায এবং ইবন উসাইমিন রহ. এ মত পছন্দ করেছেন।

খুৎবার জন্য নির্দিষ্ট সময়:সকল মাযহাবের ঐকমত্যে উভয় ঈদে খুৎবা পাঠের নির্দিষ্ট সময় হচ্ছে নামাযের পরবর্তী সময়। ইবনে কুদামা ও ইবনে জুযাই এ ব্যাপারে ইজমা’ বর্ণনা করেছেন।

২য় মত: আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা। ইবনুল কায়্যিম, ইবন বায রহ. এটাকেই গ্রহণ করেছেন; আর ইমাম শাওকানী এ মতের দিকে ঝুঁকেছেন।

ঈদুল ফিতরের সুন্নতসমুহ

ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া এবং সেটা বেজোড় সংখ্যক খেজুর হওয়া। সকল মাযহাবের ঐকমত্যে ঈদুল ফিতরের দিন নামাযের উদ্দেশ্যে ঘর ত্যাগ করার পূর্বে কিছু খেয়ে নেয়া, বেজোড় সংখ্যা পরিমাণ খেজুর ভক্ষন করা মুস্তাহাব। এ ব্যাপারে হানাফী, মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী চার মাযহাবের ঐকমত্য রয়েছে।

প্রত্যুষে গমন করা : মুক্তাদীগণের জন্য সুন্নাত হচ্ছে, ফজরের পরপরই (বিলম্ব না করে) ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়া। যেমনটি শাফেঈ ও হাম্বলীগণ সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

ঈদগাহে পদব্রজে গমন করা: হানাফী, মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী চার মাযহাবের ঐকমত্যে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন করা মুস্তাহাব। আর এটি এক বিরাট গোষ্ঠী সালফে সালেহীনের মত।

এক পথে গমন, অন্য পথে প্রস্থান :হানাফী, মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী চার মাযহাবের ঐকমত্যে ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথে গমন করা এবং ভিন্ন পথে প্রত্যাবর্তন করা সুন্নত।

ঈদের দিন গোসল করা : ঈদের দিন গোসল করা সুন্নত। ইবনে আব্দিল বার, ইবনে রুশদ ও ইমাম নববী রহ. এ ব্যাপারে ইজমা বর্ণনা করেছেন।

সুঅবয়ব ও উত্তম পোশাকে বের হওয়া : হানাফী, মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী চার মাযহাবের ঐকমত্যে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাকে বের হওয়া মুস্তাহাব।

সুগন্ধি ব্যবহার করা : হানাফী, মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী চার মাযহাবের ঐকমত্যে পুরুষদের জন্য ঈদগাহে বের হওয়ার পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত।

ঈদের দিন পরস্পর তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকুম বলে কুশল বিনিময়:

ঈদের দিন পারস্পরিক তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকুম বলে কুশল বিনিময় করাতে কোনো সমস্যা নেই। এটি হানাফী, মালেকী, হাম্বলী মাযহাব এবং কোনো কোনো শাফেঈ এর মত।

যাকাতুল ফিতর এর বিধান : হানাফী, মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলী চার মাযহাবের ঐকমত্যে যাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। আর সালফে সালেহীনের এক বৃহৎ অংশের মতও তাই। ইবন হাযমও তাই বলেছেন। ইবন কুদামা এ ব্যাপারে ইজমা বর্ণনা করেছেন।

যাদের উপর যাকাতুল ফিতর প্রযোজ্য হবে

ছোট বড়, পুরুষ মহিলা, দাস স্বাধীন সকল মুসলিমের উপর যাকাতুল ফিতর করা ওয়াজিব। ইবনে রুশদ এবং ইবনে কুদামা রহ. এ ব্যাপারে ইজমা উল্লেখ করেছেন।

অন্যের পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর আদায় : একজন মুসলিমের জন্য অন্যের পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে নাকি প্রত্যেক মুসলিমের নিজের জন্য যাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব্ত এ ব্যাপারে আলেমদের বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কয়েকটি মত হলো:

১ম মত: প্রতিটি মুসলিমের উপর তার নিজের পক্ষ থেকে এবং পরিবার-পরিজন, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, দাসদাসীসহ যাদের ভরণপোষনের দায় তার উপর ন্যস্ত রয়েছে সকলের পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব (যদি তার এবং তাদের একদিন-একরাত্রির খোরাকের চেয়ে অতিরিক্ত যাকাতুল ফিতরের পরিমাণ সম্পদ থাকে)। শাফেঈ, মালেকী, হাম্বলী মাযহাবসহ অধিকাংশ ফকিহের মতামত তাই।

২য় মত: শুধু নিজের পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজিব। ইবনে হাযম এবং ইবনে উসাইমিন রহ. এই মতটিকেই প্রধান্য দিয়েছেন।

ভ্রূণ শিশুর পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর আদায়: গর্ভস্থিত ভ্রূণ শিশুর পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। ইবনুল মুনযির রহ. এ ব্যাপারে ইজমা বর্ণনা করেছেন।

যাকাতুল ফিতর এর পণ্য: স্থানীয় খাদ্যদ্রব্যের হিসাবে এক সা পরিমাণ খাদ্য। শাফেঈ মাযহাবের বিশুদ্ধ মত তা-ই। ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যিম, ইবন বায এবং ইবন উসাইমিন রহ. এটাকেই গ্রহণ করেছেন।

যাকাতুল ফিতর এর মূল্য প্রদান:যাকাতুল ফিতরের জন্য খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে সমপরিমাণ মূল্য প্রদান করা জায়েয নেই। মালেকী, শাফেঈ এবং হাম্বলী মাযহাবসহ অধিকাংশ ফকিহের এটাই মত। ইবন মুনযির, ইবন হাযম, ইবন বায ও ইবন উসাইমিন এটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

যাকাতুল ফিতর এর হকদার:শুধু অসহায়, দরিদ্র মুসলিমদেরকে যাকাতুল ফিতর প্রদান করতে হবে। যাকাতের আটটি খাতের বাকি হকদারদের কেউই যাকাতুল ফিতরের হকদার হিসেবে বিবেচিত হবে না। এটিই মালেকীদের মত। ইবন তাইমিয়া, ইবনুল কায়্যিম, ইবন বায ও ইবন উসাইমীন এ মতটিই পছন্দ করেছেন।

যাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার সময়: রমযান মাসের শেষ দিনের সূর্যাস্ত অর্থাৎ শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সাথে সাথে সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। এটাই হাম্বলী, শাফেঈ মাযহাব এবং মালেক রহ. থেকে বর্ণিত একটি মত। ইবনে হাজার ও ইবনে উসাইমিন রহ. এর মতও অনুরূপ।

যাকাতুল ফিতর অগ্রিম আদায়: ঈদের একদিন বা দুইদিন পূর্বে যাকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে। ইবনে কুদামা রহ. এ ব্যাপারে ইজমাবর্ণনা করেছেন। আমীন চুম্মা আমীন। আল্লাহ আমাদের সকলকে নেকার ও ছলেহ বান্দাহ হিসেবে কবুল করুক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here