আল কুরআনের মুজিযা : আল কুরআনের নির্ভরযোগ্যতা ও বিশুদ্ধতা

0
744

কুরআন মাজিদই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত একমাত্র নিখাঁদ গ্রন্থ হিসেবে বর্তমান বিশ্বে চলমান। মুসলিম-অমুসলিম সকলেই একবাক্যে স্বীকার করে যে, এটিই একমাত্র গ্রন্থ যা তার প্রাচীন অবস্থায় আজাবধি বিদ্যমান। এটি অবতীর্ণ হয়েছে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর, মানবজাতির জন্য হেদায়েতের চূড়ান্ত ও সর্বশেষ বার্তা হিসেবে। এই মহিমান্বিত খোদায়ি গ্রন্থটি মানব সমাজে প্রচলিত সবধরনের প্রমাণ ও মানদণ্ডে উত্তীর্ণ সর্বাধিক বিশুদ্ধ বলে বিবেচিত। পেছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্তকৃ এটি সর্বাপেক্ষা অকাট্য ও অভ্রান্ত বিশ্বাস হিসেবে নির্দেশিত, যেমনটি তা সর্বাধিক প্রামাণ্য ও শাশ্বতরূপে সংরক্ষিত। এই গ্রন্থের প্রতিটি শব্দ, এমনকি বর্ণসমূহও সামান্যতম পরিবর্তন, পরিবর্ধন কিংবা সংমিশ্রণ- সবধরনের বিচ্যুতি থেকে সংরক্ষিত রয়েছে। এটি কেবল লিখিতরূপে গ্রন্থ আকারেই সংরক্ষিত নয়, বরং সব সময় অসংখ্য মানুষের হৃদয় তটেও সংরক্ষিত রয়েছে। এটি বিগত চৌদ্দশ বছর যাবৎ এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে এবং একস্থান থেকে আরেক স্থানে কুরআন মাজিদেও সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও সুনিশ্চিত করেছে।

কোনো অনুসিদ্ধান্ত কিংবা রিপোর্টের (Reliability) গ্রহণযোগ্যতা ও (Validity) যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করতে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্যে একটি বৈজ্ঞানিক কৌশল সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। ওয়েবস্টার (The Webstar 1996) অভিধানে ‘Reliabile’ শব্দের অর্থ করা

হয়েছে নির্ভরযোগ্য (Trustworthy) এবং ‘Valid’ শব্দের অর্থ করা হয়েছে উত্তম (ঝড়ঁহফ) ও যুক্তিসম্মত (Logical)। অক্সফোর্ড (The Oxford) (১৯৯৫) ‘Reliable’ শব্দের ব্যাখ্যা দিয়েছে, ‘able to be relied upon’ (যার ওপর নির্ভও করা স¤ব),¢ ‘constantly good in quality and pertormance’ (মান ও যোগ্যতায় চির উত্তম) এবং ‘Validity’ শব্দের ব্যাখ্যা দিয়েছে এভাবে, having legal torce (নৈতিক বলের অধিকারী হওয়া), legally acceptable (নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য) sound to the points and logical (যথার্থরূপে উত্তম এবং যৌক্তিক)।

এ সকল সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে আমরা শব্দ দু’টিকে একটি সাধারণ দৃষ্টান্তের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে পারি। কিছু লোক একটি আঞ্চলিক রেডিওস্টেশনে বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন শুনতে পেল। তাতে বলা হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট গুদাম বা স্টোর থেকে প্রত্যেক পণ্য ৫০% (শতকরা পঞ্চাশভাগ) কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। যারা এই প্রজ্ঞাপন শুনল তারা এই তথ্যটি আর কিছু মানুষকে জানিয়ে দিল, যারা পর্যায়ক্রমে এই তথ্যটিকে অন্য কিছু লোককে জানাল। যদি এই বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় প্রত্যেকে অভিন্ন তথ্য প্রদান করে, তখন এই তথ্যকে নির্ভরযোগ্য (Reliable) বলা যাবে। উপরন্তু যদি লোকেরা সেই গুদামে গিয়ে দেখে যে, প্রত্যেক পণ্যই ৫০% হ্রাসকতৃ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে- তখন এই তথ্যকে বলা হবে Valid বা প্রমাণসিদ্ধ। অন্যথায় তথ্যটি হবে invalid (অসত্য)। এভাবে একটি তথ্য নির্ভরযোগ্য কিন্তু অশুদ্ধ ও ভুলও হতে পারে।

তাহলে এবার আসুন উদাহরণটি আমরা কুরআনের সঙ্গে মিলিয়ে নিই। যদি এ কথা প্রমাণ করা যায় যে, রাসুলুল্লাহ সা. থেকে প্রজন্মান্তরে এবং স্থানবেধে আল কুরআনের বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটে নি এবং বর্তমানে কুরআন মাজিদ হুবহু তেমনটিই আছে যেমনটি রাসুলুল্লাহ সা. মানুষের কাছে উপস্থাপন করেছিলেন- তাহলে তা কুরআন মাজিদের নির্ভরযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করবে। আগত পৃষ্ঠাগুলি এমন কিছূ প্রমাণ যোগান দিচ্ছে যা কোনো ধরনের সন্দেহ-সংশয় ব্যতিরেকে কুরআনের নির্ভরযোগ্যতাকে প্রতিষ্ঠা ও সপ্রমাণ করবে।

যদি একথা প্রতিষ্ঠা করা যায় যে, কুরআন মাজিদ একটি খোদায়ি গ্রন্থ, আল্লাহ তাআলা কর্তকৃ অবতীর্ণ- তাহলে তা কুরআন মাজিদের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করবে সন্দেহাতীতভাবে। যা হোক, যৌক্তিকতার বিষয়টি জটিলতাপূর্ণ। কারণ, বাস্তবতা হল, মানুষের মন সেসব সত্য সম্পর্কে সংশয়

লালন করে যা জড়বাদী পরীক্ষণের বলয় থেকে দূরে। এ কারণেই বইয়ের বাকি অংশ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কুরআনের যৌক্তিকতা ও সত্যতা প্রতিষ্ঠার প্রমাণ যোগান দিতে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

কুরআনের নির্ভরযোগ্যতা

মুসলমানরা কুরআনের সংরক্ষণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে দু’টি ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। প্রথমটি মৌখিক, হেফজ করার মাধ্যমে। দ্বিতীয়টি লৈখিক, লিপবিদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। নিচে এই পদ্ধতিদ্বয়ের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হল :

হেফজ করার মাধ্যমে মৌখিক বর্ণনা

নবী মুহাম্মদ সা. ছিলেন পূর্ণাঙ্গ কুরআন মাজিদের প্রথম হাফিজ (মুখস্ত কারী)। যখনই কুরআনের কোনো আয়াত নাজিল হত তিনি তা আত্মস্থ করে নিতেন। মাঝেমধ্যে অহি অবতীর্ণ হওয়ার সময় তিনি আয়াতগুলি দ্রুত পুনরাবৃত্তি করতেন পাছে যেন ভুলে না যান। আল্লাহ তাআলা তখন এত দ্রুততার সঙ্গে জিহ্বা না নাড়ানোর জন্যে বললেন এবং আল্লাহ তাআলা তাকে আশ্বস্ত করলেন যে, তিনি নিজেই কুরআন মাজিদ তার স্মৃতিতে সংরক্ষিত করে দেবেন। কুরআনের ভাষায় :

‘তাড়াতাড়ি শিখে নেয়ার জন্যে আপনি দ্রুত আপনার জিহ্বা নাড়াবেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ আমারই দায়িত্বে। অতঃপর আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। এরপর বিশদ বর্ণনা আমারই দায়িত্ব। (কিয়ামা, ১৬ : ১৯)

আপনার প্রতি আল্লাহর অহি সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে আপনি কুরআন গ্রহণের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করবেন না। (ত্ব-হা, ২০ : ১১৪)

এই আয়াতগুলি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, কুরআনের যে অংশই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর নাজিল হত, তা আল্লাহ তাআলা কর্তকৃ তার মনে সংরক্ষিতও হয়ে যেত। এটি তাকে মানুষের কাছে কুরআন মাজিদকে হুবহু সেরকমভাবে ব্যক্ত করতে সক্ষম করেছে যেমনটি তিনি আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে লাভ করেছেন।

হাদিসের গ্রন্থসমূহ থেকে জানা যায় যে, রমজান মাসে রাসুলুল্লাহ সা. পুরো কুরআন মাজিদ ফেরেশতা জিব্রাইলকে তেলাওয়াত করে শুনাতেন। অতঃপর তিনি জিব্রাইল আ. থেকে পুরো কুরআন মাজিদের তেলাওয়াত শুনতেন। এও বর্ণিত আছে যে, যে বছর রাসুলুল্লাহ সা. ইন্তেকাল করেন সে বছর তিনি পুরো কুরআন মাজিদ দুইবার তেলাওয়াত করেন এবং জিব্রাইল আ. থেকে দুইবার তেলাওয়াত শ্রবণ করেন। এভাবে আল্লাহ তাআলা তার মনোনীত প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্মৃতিতে কুরআন মাজিদের সংরক্ষণকে আরও বেশি সুনিশ্চিত করেন।

রাসুল সা. তাঁর সাহাবিদেরকেও কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত এবং মুখস্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এমন অসংখ্য হাদিস রয়েছে যাতে কুরআন মাজিদ শেখা ও শিখানোর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নিচে একটি হাদিস উল্লেখ করা হল, যা মহান সাহাবি আব্দুলাহ− ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। রাসুল সা. ইরশাদ করেন,

তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে কুরআন মাজিদ শিখে ও শিক্ষা দেয়।’ (বুখারি)

এই শিক্ষার ফলস্বরূপ অসংখ্য সাহাবি সমগ্র কুরআন মাজিদ হিফজ করেছেন। ইতিহাস এমন অনেক সাহাবির নাম সংরক্ষণ করে রেখেছে যারা পুরো কুরআন মাজিদ হিফজ করেছিলেন। তাছাড়া দৈনিক পাঁচওয়াক্ত ফরজ নামাজে কুরআনের তেলাওয়াত করা একটি অপরিহার্য বিষয়। এ কারণে সকল সাহাবি তাদের প্রাত্যহিক নামাজ আদায়ের জন্যে একটি বিশেষ অংশ মুখস্ত করেছিলেন।

অধিকন্তু রাসুলুল্লাহ সা.ও প্রাত্যহিক নামাজ আদায়কালে উচ্চস্বরে কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত করতেন। এভাবে একটি উলেখযোগ্য− পরিমাণ সাহাবায়ে কিরাম প্রতিদিন তিন ওয়াক্ত নামাজ, যাতে উচ্চস্বরে কুরআন তেলাওয়াত করা হয়- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তেলাওয়াত শ্রবণ করতেন। বহুসংখ্যক সাহাবি কুরআন মুখস্ত করার জন্যে এটি ছিল বাড়তি সহায়ক।

রমজান মাসে সাহাবায়ে কিরামের যুগে তারাবির নামাজ পড়ার রীতি ছিল। তারাবির নামাজের একটি সাধারণ চিত্র হল, যে ব্যক্তি তা পড়িয়ে থাকেন তিনি সচরাচর একজন হাফেজ হয়ে থাকেন। তিনি তারাবির নামাজের মধ্যে পুরো কুরআন মাজিদের তেলাওয়াত খতম করে থাকেন। এই রীতিটি প্রত্যেক যুগে অসংখ্য মুসলমানকে পুরো কুরআন মাজিদ হিফজ করতে সাহায্য করেছে। বস্তুত প্রত্যেক মুসলিম সমাজেই চাই তা ছোট কিংবা বড়-সব সময় এমন কিছু লোক আছে যারা পুরো কুরআন মাজিদ মুখস্ত করেছে। এসব লোক তাদের স্ব-স্ব সমাজ বা এলাকায় প্রতি বছর তারাবির নামাজ পড়িয়ে থাকেন এবং রমজান মাসে তিরিশ দিনের ভেতরেই তারাবির নামাজে পুরো কুরআন মাজিদ খতম করেন।

এসকল পদ্ধতিতেই প্রথম দিকে কুরআন মাজিদ সংরক্ষিত হয়েছিল, কেবল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্মৃতিতেই নয় বরং একটি বড় সংখ্যক সাহাবিদের অন্তরেও। তখন থেকে এই ধারা সারা পৃথিবীতে সকল মুসলিম প্রজন্মের মধ্যে চলে আসছে। প্রত্যেক মুসলমান সমাজ ও গোত্রে প্রত্যেক মুসলিম প্রজন্মে এমন অসংখ্য নারী-পুরুষ ছিল যারা পুরো কুরআন মাজিদ মুখস্ত করেছিল। এসকল লোক বাচনিকভাবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কুরআন মাজিদ বর্ণনা করেন। বস্তুত মানব ইতিহাসে কুরআন মাজিদই একমাত্র গ্রন্থ যা তার প্রতি বিশ্বাসীরা মুখস্ত করে এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বাচনিকভাবে বর্ণনা করে। ফলশ্রুতিতে কুরআন মাজিদের বিশুদ্ধতা ও নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে কখনও কোনো প্রশ্ন ওঠে নি।

লিখিত প্রামাণ্য বর্ণনা

হাদিস ও ইতিহাস গ্রন্থসমূহ থেকে প্রমাণিত, যখনই রাসুল সা. কুরআনের কোন অহি লাভ করতেন তিনি একজন কাতিব বা লেখককে ডাকতেন এবং তা লিখে নিতে বলতেন। একই সাথে কুরআনের কোন আয়াত কোন জায়গায় রাখতে হবে তাও সুনির্দিষ্টভাবে বলে দিতেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ, তিনি লেখককে বলে দিতেন কোন সুরায় কোন আয়াতগুলো লিপিবদ্ধ করতে হবে। অতঃপর তিনি সুরার হুবহু সেই স্থানটি বলে দিতেন যেখানে অবতীর্ণ আয়াতগুলি সন্নিবেশিত করতে হবে। যেমন : অমুক সুরার অমুক আয়াতের আগে বা পরে। লেখক তখন কুরআনের অবতীর্ণ আয়াতগুলি খেজুর গাছের ছাল কিংবা পশুর চামড়া বা উটের হাড্ডিতে লিখে নিতেন অতঃপর তিনি আয়াতগুলি রাসুল সা. কে পড়ে শুনাতেন এবং তার লিখা ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিতেন। ঐতিহাসিকগণ ও হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থাবলি ৪০ জনেরও অধিক কুরআনের অহি লেখকের নাম রেকর্ড করেছে। তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ হলেন জায়েদ বিন সাবিত রা.।

উমর রাদিয়ালাহু− আনহুর ইসলাম গ্রহণের প্রসিদ্ধ ঘটনা আল কুরআন লিখিত আকারে সংরক্ষণ করার একটি সমুজ্জ্বল প্রমাণ, এ থেকে বুঝা যায় মক্কায় আংশিকভাবে লিখিত কুরআন ছিল সচরাচর, এমনকি যখন রাসুল সা. সবেমাত্র তার মিশন শুরু করেছিলেন তখনও। বর্ণিত আছে, একদা উমর রা. রাসুল সা.- কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ক্রোধান্বিত অবস্থায় বের হন। রাসুলের সা. বাড়ি যাওয়ার পথিমধ্যে কারও সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় এবং সে তাকে জানায় যে, তার বোন এবং ভগ্নিপতি ইসলাম গ্রহণ করেছে। উমর রা. দ্রুতবেগে তার বোনের বাড়িতে উপনীত হলেন এবং তাদেরকে কি যেন পড়তে দেখলেন। উমরের বোন তা লুকিয়ে ফেললেন। তখন উমরের সন্দেহ রইল না যে, তারা কুরআন তেলাওয়াত করছিল, তিনি তখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন এবং উভয়কে প্রহার করতে লাগলেন। এরই মধ্যে তাঁর তার বোন মাটিতে পড়ে যান এবং তার দেহ থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করে। উমর রা. সম্বিত ফিরে পান এবং বুঝতে পারেন যে, তিনি তাঁর বোনকে আঘাত দিয়েছেন, তখন তিনি বোনকে অনুরোধ করলেন তারা যা পড়ছিল তা দেখাতে। বোন বললেন, তারা কুরআন তেলাওয়াত করছিলেন এবং অপবিত্র অবস্থায় তিনি তা স্পর্শ করতে পারেন না। তিনি তাকে বললেন গোসল করে নিজেকে পবিত্র করতে। উমর সম্মত হলেন এবং লিখিত কপিটি নিয়ে পাঠ করলেন। তাতে সুরা ‘ত্ব-হা’র কিছু আয়াত লিখিত ছিল। উমর তা পড়ে এত গভীরভাবে আলোড়িত হলেন যে, দ্রুত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাড়ির দিকে ছুটে গেলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। ইতিহাস ও হাদিসের গ্রন্থসমূহে সুলিখিত প্রামাণ্য এই ঘটনা থেকে বুঝা যায়, মক্কায় কুরআনের লিখিত কপি সুলভ ছিল, এমনকি যখন মুসলমানদের ধর্ম পালন ও ইসলাম প্রচারের স্বাধীনতা ছিল না তখনও।

উলেখযোগ্য− সংখ্যক হাদিস থেকে জানা যায়, মদিনাতেও কুরআন মাজিদের লিখিত কপি সহজলভ্য ছিল। তন্মধ্যে একটি হাদিসে এসেছে, ‘যখন লোকেরা মদিনায় আসত. তাদেরকে কুরআনের কপি সরবরাহ করা হত, যাতে তারা নিজে নিজে কুরআন মাজিদ পড়ে ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারে।’ (সূত্র: হাদিসের একটি প্রাচীন গ্রন্থ ‘সহিফায়ে হুমাম ইবনে মুনাব্বিহ’)

আব্দুলাহ− ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সা. ইরশাদ করেন-

‘সফরে তোমার সঙ্গে কুরআন নিয়ে যাবে না, পাছে তা আবার কোনো শত্রুর হাতে পড়ে যায় (যে তার অসম্মান করবে)।’ (মুসলিম)

হাদিস ও ইতিহাসের বেশ কিছু গ্রন্থ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিদায় হজের বিস্তারিত বিবরণ উদ্ধৃত করেছে, যেখানে তিনি প্রায় এক লক্ষ চব্বিশ হাজার (১,২৪,০০০) মুসলমানের সমাবেশে ‘বিদায় ভাষণ’ প্রদান করেছিলেন। রাসুল সা. বলেন, ‘আমি তোমাদের কাছে দু;টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা সেগুলি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর, তবে তোমরা কিছুতেই পথভ্রষ্ট হবে না। (তা হল) আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের সা. সুন্নাহ বা জীবনাদর্শ।’ এই ভাষ্য পরিষ্কারভাবে নির্দেশ করছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তিকালের পূর্বে কুরআন মাজিদ একটি কিতাব বা গ্রন্থের আকারে সাহাবায়ে কেরামের কাছে সুলভ ছিল। নয়তো তিনি এটিকে একটি গ্রন্থ বলে উল্লেখ করতেন না।

বস্তুত কুরআন মাজিদও একথার সাক্ষ্য দেয় যে, তা সব সময় একটি গ্রন্থের আকারে সুলভ ছিল।

‘নিশ্চয় এটি সম্মানিত কুরআন, যা আছে এক সুরক্ষিত গ্রন্থে। যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করে না। এটি জগতসমূহের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (ওয়াকিয়া, ৫৬ : ৭৭-৮০)

এই আলোচনা থেকে যা পরিষ্কারভাবে সামনে আসছে তা হল, রাসুলুল্লাহ সা-এর জীবদ্দশাতেই কুরআন মাজিদ লিখিত আকারে সংরক্ষিত ছিল। আর তা মক্কা ও মদিনায় মুসলিম-অমুসলিম সকলের কাছে সুলভ ছিল।

 

প্রথম খলিফা আবু বকর রা.-এর শাসনামল (১০-১৩ হি. মোতাবেক ৬৩২-৬৩৫ ইং) :

যখন রাসুল সা. চলে গেলেন, আবু বকর রা. প্রথম খলিফা মনোনীত হলেন। তাঁর খেলাফতকালে ৯ম হিজরি মোতাবেক ৬৩৩ ঈসায়ি) তে ইয়ামামার যুদ্ধ সংগঠিত হয়। একটি উলেখযোগ্য− সংখ্যক মুসলমান সেই যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন, যাতে ৭০ (সত্তর) জন কুরআন মাজিদের হাফিজও ছিল। এসময় উমর রা. আবু বকর রা. কে পরামর্শ দিলেন এবং কুরআন মাজিদকে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থরূপে দাপ্তরিকভাবে লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা জোরালভাবে তুলে ধরলেন। উল্লেখ্য যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবদ্দশায় কুরআন মাজিদ একটি একক গ্রন্থিত বই আকারে সংকলিত ছিল না, তার কারণ; রাসুল সা. জানতেন না, কখন কুরআন মাজিদের সর্বশেষ আয়াতগুলি অবতীর্ণ হবে এবং কুরআনের কোন স্থানে সেগুলিকে রাখা হবে। কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনের পরিসমাপ্তির সঙ্গেই কুরআন অবতরণের ধারা সম্পূর্ণ হবে।

আবু বকর রা. কুরআন মাজিদের প্রধান লেখক জায়েদ ইবনে সাবিত রা. কে নির্দেশ দিলেন বিভিন্ন আয়াতের বিচ্ছিন্ন লিখিত কপিগুলো সংগ্রহ করে একটি একক গ্রন্থরূপে বাঁধাই করতে। অতঃপর জায়েদ রা. ঘোষণা দিলেন, যাদের কাছে কুরআন মাজিদের কোনো লিখিত অংশ আছে তারা যেন সেগুলো তাঁর কাছে নিয়ে আসে। তিনি কুরআনের লিখিত কপিগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করলেন। যখন কেউ কুরআন মাজিদের কোনো বিশেষ অংশ নিয়ে আসত, তখন তিনি তা অন্যান্য লিখিত অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেন। তারপর ঘোষণা দিতেন, কুরআনের এমন একটি লিখিত অংশ তাঁর কাছে নিয়ে আসা হয়েছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ- তিনি ঘোষণা করতেন, তিনি কুরআন মাজিদের ৬নং সুরার ১০-১৫নং আয়াতগুলির একটি লিখিত কপি হাতে পেয়েছেন। তখন তিনি অন্যদের বলতেন, এই আয়াতগুলি তাঁদের স্মৃতি থেকে তেলাওয়াত করতে। এভাবে কুরআনের লিখিত কপির নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতেন। কমপক্ষে দু’জন ব্যক্তি তাদের হিফজের সঙ্গে মিলিয়ে নির্দিষ্ট লিখিত কপির সত্যতার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়া ব্যতিরেকে তিনি তা গ্রহণ করতেন না। এভাবে তিনি কুরআনের সকল আয়াত একটি গ্রন্থাকারে সেই ক্রমানুসারে সন্নিবেশিত করলেন যেভাবে রাসুল সা. তা লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন। কুরআনের এই কপিটি তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী হাফসা রা.-এর কাছে সংরক্ষণ করা হয় যা লিখিত কুরআনের অফিসিয়াল কপি হিসেবে ব্যবহৃত হত।

তৃতীয় খলিফা উসমান রা.-এর শাসনামল (২৪-৩৫ হি. মোতাবেক ৬৪৪-৬৫৫ ইং) :

তৃতীয় খলিফা উসমান রা.-এর শাসনামলে ইসলাম দূর-দূরান্তে বিস্তার লাভ করে। নওমুসলিমরা বিভিন্ন আঞ্চলিক উচ্চারণে কুরআন মাজিদ পড়তে শুরু করে। তখন মুসলমানদের মধ্যে কুরআন মাজিদের বিশুদ্ধ তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে চরম বৈসাদৃশ্য দেখা দেয়। তখন উসমান রা. কুরআন মাজিদ তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে অভিন্নতা আনয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি জায়েদ বিন সাবিত রা. এবং আরও তিনজন সাহাবিকে কুরাইশের স্থানীয় ভাষায় কুরআন মাজিদ পুনর্লিখনের জন্য নিযুক্ত করলেন। এটি সেই গোত্রের ভাষা যেখানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্মগ্রহণ করেন। জায়েদ রা. কুরআন মাজিদের সেই প্রথম কপিটি আনিয়ে নিলেন যা রাসুলুল্লাহ সা.-এর স্ত্রী হাফসা রা.-এর তত্ত্বাবধানে সুরক্ষিত ছিল।

কুরআনের এই কপির ওপর ভিত্তি করে কুরাইশের স্থানীয় ভাষায় তিনি সাতটি (নতুন) কপি লিপিবদ্ধ করলেন। পরে উসমান রা. এই কুরআনের একটি করে কপি ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন প্রাদেশিক রাজধানীতে প্রেরণ করেন। একটি কপি রাখেন মদিনায়। তিনি এই আদেশও জারি করেন যে, কুরআনের বাকি সকল কপি যেন নষ্ট করে ফেলা হয়। অধিকন্তু কুরআন মাজিদের প্রতিটি কপির সঙ্গে উসমান রা. একজন করে দক্ষ ক্বারিও প্রেরণ করেন যারা কুরাইশের স্থানীয় ভাষায় তেলাওয়াত করতে পারতেন। এটি কুরআনের পঠন ও লিখনের ক্ষেত্রে পুরো মুসলিম বিশ্বে একটি পরিপূর্ণ অভিন্নতা ও ঐক্য নিয়ে আসে। এই কপিসমূহের দু’টি এখনও বিদ্যমান রয়েছে। একটি রাশিয়ার তাসখন্দে এবং অপরটি তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে। বাস্তবতা হল, বিগত চৌদ্দশ বছরে কুরআন মাজিদে কোনো ধরনের পরিবর্তনই আসে নি। যা বর্তমান বিশ্বে বিদ্যমান যে কোনো কপির সঙ্গে কুরআনের এই কপিগুলো মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে নিরূপণ করা যেতে পারে।

তাবেয়িদের শাসনামল (সাহাবায়ে কিরামের পরবর্তী যুগ) :

সপ্তম শতাব্দীতে আরবি যে পাণ্ডুলিপি ব্যবহৃত হত, উদাহরণ স্বরূপ- রাসুল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে তা ছিল নিতান্ত মৌলিক প্রতীক সর্বস্ব। যা কেবল শব্দের ব্যঞ্জণবর্ণীয় রূপেই ব্যক্ত হত। কিন্তু তাতে শব্দের পরিষ্কার উচ্চারণ নির্দেশক চিহ্নগুলো ছিল না। ফলে তা কেবল একজন আরবি ভাষায় পারঙ্গম ব্যক্তিই পড়তে পাড়ত। তাবেয়িদের সময়ে দুপ্রকার গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নের শুরু হয় যা কুরআন মাজিদের অভিন্ন উচ্চারণকে আরও নিশ্চিত করে। পারিভাষিকভাবে এ লোকে ‘নুকতা’ ও ‘হরকত’ বলা হয়। ‘হরকত’ বলা হয় এমন কিছু বিশেষ চি হ্নকে যা স্বরবর্ণকে নির্দেশ করে। আরবিতে এগুলিকে ‘ফাতহা’, ‘কাসরা’ ও ‘যাম্মা’ বলে এবং বাংলায় যের, যবর ও পেশ বলে। ইসলামের প্রাথমিক যুগের লিখন পদ্ধতিতে এগুলি ব্যবহৃত হত না। তাবেয়িগণই উসমান রা. কর্তৃক সংকলিত কুরআন মাজিদে এই চি হ্নগুলি সংযুক্ত করে। এভাবে প্রত্যেকটি শব্দ সুস্পষ্টভাবে পড়া যেতে পারে। যেমন, ‘বা’ কে ‘বা’ ‘বি’ ‘বু’ রূপে পড়া যায়।

‘নুকতা’ হল, প্রত্যেক শব্দের সঙ্গে যথোপযুক্ত বিন্দু বা বিন্দুসমূহ সন্নিবেশিত করা। যেমন : ‘বা’ এর নিচে একটি বিন্দু দেয়া হত, এবং ‘ইয়া’-এর নিচে দু’টি বিন্দু দেয়া হত। অনুরূপভাবে ‘তা’ ও ‘ছা’ এর উপরে পর্যায়ক্রমে দু’টি ও তিনটি বিন্দু দেয়া হত। এই স্মরণীয় কাজ সম্পাদিত হয় উমাইয়া যুগের পঞ্চম খলিফা আব্দুল মালিকের আমলে (৬৬-৮৬ হি. মোতাবেক ৬৮৫-৭০৫)। বর্ণিত আছে, কুফার গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আরবি ভাষায় সুপণ্ডিত দু’জন ব্যক্তি- যাদের নাম ইয়াহইয়া বিন আমের এবং নাসর বিন আসেম- কে এই কাজ সম্পন্ন করার আদেশ দেন। ‘হরকত’ ও ‘নুকতা’র সংযোজন কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে একটি পরিপূর্ণ সমতা ও অভিন্নতা নিশ্চিত করে। এমনকি যাদের মাতৃভাষা আরবি নয় তাদের ক্ষেত্রেও।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা প্রতীয়মান হল যে, কুরআন মাজিদ মুমিনদের মাঝে দু’টি ভিন্ন ও স্বতন্ত্র কৌশল ও পদ্ধতিতে বিশ্বস্ততার সঙ্গে সংরক্ষিত ও বর্ণিত হয়ে এসেছে। যথা : বাচনিক ও লিখিত পদ্ধতি। কুরআনের বাচনিক বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে নি, তবে তার লিখিত বর্ণনার ক্ষেত্রে কিছু উন্নতি বিধান করা হয়েছে। এই উন্নতি বিধান কেবল তার বিষয়বস্তু সংহত করে নি; বরং কুরআন মাজিদের তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও শাশ্বত ঐক্য ও অভিন্নতা নিয়ে এসেছে। বাস্তবতা হল, বিগত চৌদ্দশ বছরের মধ্যে তার এই বর্ণনার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্রও পরিবর্তন সাধিত হয় নি- যা বর্তমান পৃথিবীতে বিদ্যমান মূল ও আদিগ্রন্থ

পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে। একই সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের কতিপয় হাফেজ থেকে কুরআনের তেলাওয়াত শোনার মাধ্যমেও তা নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে। এভাবে কুরআন মাজিদ দু’টি স্বতন্ত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যতার অভিধা লাভ করেছে। যথা : লিখার মাধ্যমে গ্রন্থরূপে এবং মুখস্ত করার মাধ্যমে বাচনিকভাবে। বস্তুত কুরআন মাজিদই একমাত্র খোদায়ি গ্রন্থ যা নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ডে পরিপূর্ণভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।

কুরআন মাজিদের প্রামাণ্যতা

কুরআন মাজিদের প্রামাণ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য এ কথা প্রমাণ করা আবশ্যক যে, তা আল্লাহ তাআলার বাণী এবং এভাবে একটি আসমানি গ্রন্থের ব্যাপারে একথা বলাইবাহুল্য যে, মানুষের কাছে এমন কোনো উপকরণ এবং কৌশল নেই যার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তির ভিত্তিতে তা প্রমাণ করা যেতে পারে। যা হোক, সাধারণ বোধ, কার্যকারণ, যুক্তি এবং বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতে কেউ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অনুরূপভাবে কুরআনের প্রামাণ্যতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও যে কেউ কিছু ভিন্ন ভিন্ন পন্থা গ্রহণ করতে পারে। অভিধানগুলিতে দগরৎধপষব’ শব্দকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে স্বর্গীয় বা অলৌকিক কাজ হিসেবে। আল্লাহ তাআলাই কেবল এ ধরনের মিরাকল বা মুজিজা ঘটানোর ক্ষমতা ও ইচ্ছা রাখেন। অতএব যদি এ কথা প্রমাণ করা যায় যে, কুরআনের বিষয়বস্তু ও জ্ঞান কোনোভাবেই মানুষের পক্ষ থেকে হতে পারে না, তখন তা কুরআন মাজিদকে একটি মিরাকল বা মুজিজা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। আগত পৃষ্ঠাগুলি কুরআন মাজিদের কিছু প্রকাশ্য মুজিজা উপস্থাপন করবে। একজন পাঠক যদি এই মুজিজাগুলোর মধ্যে কোনো একটির ব্যাপারে এই সত্য উপলব্ধি করতে পারে, তখন তা আল্লাহর বাণী ও আসমানি গ্রন্ত হিসেবে কুরআনের প্রামাণ্যতাকে প্রতিষ্ঠা করবে। ইরশাদ হয়েছে-

‘নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি যথাযথভাবে কিতাব নাযিল করেছি মানুষের জন্য; তাই যে সৎপথ অবলম্বন করে, সে তা নিজের জন্যই করে এবং যে পথভ্রষ্ট হয় সে নিজের ক্ষতির জন্যই পথভ্রষ্ট হয়। আর তুমি তাদের তত্ত্বাবধায়ক নও।’ (যুমার : ৪১)

নিশ্চয় এ কুরআন এমন একটি পথ দেখায় যা সবচেয়ে সরল এবং যে মুমিনগণ নেক আমল করে তাদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। (বনি ইসরাইল : ০৯)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here